সোমবার, ৪ জুন, ২০১২

বিনোদন



  • প্রযোজক-পরিচালক অনুভব সিনহার সঙ্গে জেমস
    প্রযোজক-পরিচালক অনুভব সিনহার সঙ্গে জেমস
  • জেমস
    জেমস

আবারও বলিউডের ছবিতে প্লে-ব্যাক করলেন বাংলাদেশের রক সংগীতের গুরু খ্যাত কণ্ঠশিল্পী নগর বাউল জেমস। প্রযোজক-পরিচালক অনুভব সিনহার নতুন ছবি ‘ওয়ার্নিং’-এ ‘বেবাসি’ শিরোনামের গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন জেমস। ছবির সংগীত পরিচালক মিট-ব্রস-অঞ্জন জুটি। ৩ জুন সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ে মিট-ব্রস-অঞ্জন জুটির নিজস্ব স্টুডিওতে গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে। 

প্রথম আলো ডটকমকে এ প্রসঙ্গে জেমস বলেন, ‘সংগীত জীবনে বলিউডের ছবিতে প্লে-ব্যাক আমার এক নতুন অভিজ্ঞতা। এর আগে আমার গাওয়া “ভিগি ভিগি”, “চাল চালে আপনে ঘর”, “আলবিদা” গানগুলো সবাই বেশ ভালোভাবেই গ্রহণ করেছিলেন। এরপর একাধিক ছবিতে গান করার প্রস্তাব পেয়েছি। গান ও ছবির চিত্রনাট্য পছন্দ না হওয়ায় সেসব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। অনুভব সিনহার নতুন ছবিটির টাইটেল গান করার ব্যাপারটি দারুণ আনন্দের।’ 
এবারের গানটি সম্পর্কে জেমস বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এ সময়ে মিট-ব্রস-অঞ্জন ত্রয়ী দারুণ জুটি। তাঁরা আমার গানের ধারা পর্যবেক্ষণ করেই ছবির শিরোনাম গানটি তৈরি করেছেন। সাড়ে সাত মিনিটের গানটি গেয়ে আমারও অনেক ভালো লেগেছে। মেলো রক গানটিতে নগর বাউলের নিজস্ব ঘরানার আমেজই থাকবে।’ 
নগর বাউল জেমসের ব্যবস্থাপক রুবাইয়াত ঠাকুর বলেন, ‘বলিউডের ছবিতে গান করা নিঃসন্দেহে অনেক আনন্দের। জেমস ভাই এবারও অসাধারণ গেয়েছেন। বলিউডের সবাই গানটির বেশ প্রশংসাও করেছে। আশা করছি, জেমস ভাইয়ের আগের গানগুলোর মতোই এ গানেও উপমহাদেশ কাঁপাবেন তিনি।’
২০০৫ সালে মহেশ ভাটের গ্যাংস্টার ছবিতে প্রীতমের সুর-সংগীতে ভিগি ভিগি গানটির মধ্য দিয়ে বলিউডের ছবির গানে জেমসের অভিষেক হয়। এরপর অনুরাগ বসুর ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’ ছবিতে ‘আলবিদা’ ও ‘রিশতে’ গান দুটিতেও কণ্ঠ দেন তিনি। সর্বশেষ ২০০৮ সালে ‘ও লাম হে’ ছবিতে জেমস ‘চাল চালে’ গানটিতে কণ্ঠ দেন জেমস। চার বছর বিরতির পর এবার আবারও বলিউডে প্লে-ব্যাক করলেন জেমস।
‘ওয়ার্নিং’ ছবিটির বেশির ভাগ শুটিং হবে নিউজিল্যান্ডের পাশে দ্বীপাঞ্চল ফিজিতে। ছবিতে তিন জোড়া নায়ক-নায়িকা থাকছেন। ছবিতে জেমসের গাওয়া গানটির একটি ব্যয়বহুল মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করা হবে। খুব শিগগিরই ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোতে মিউজিক ভিডিওটির প্রচার শুরু হবে।

শনিবার, ২ জুন, ২০১২

জাতীয় দলের কোচ পাইবাস এখন ঢাকায় স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট জাতীয় দলের প্রধান কোচ পাইবাস ঢাকায় এসেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বসতি গড়া এই ইংলিশ কোচ ‘অন-অ্যারাইভাল’ ভিসা নিয়ে ‘ইমিগ্রেশন’ পার হন। বাংলাদেশের নতুন কোচ রোববার থেকে কাজে লেগে পড়বেন বলে জানিয়েছে বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ। 

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র সঙ্গে আপাতত দুই বছরের চুক্তি হবে জাতীয় দলের নতুন কোচের। স্টুয়ার্ট ল’র উত্তরসূরী পাইবাস জাতীয় দল নিয়ে ১২ জুন জিম্বাবুয়ে সফরে যাবেন ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলার জন্য। 

পাইবাস ১৯৯৯-২০০১ ও ২০০৩ সালে পাকিস্তান জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর কোন আন্তর্জাতিক দলের কোচ ছিলেন না। দক্ষিণ আফ্রিকায় তিনটি ক্লাব ও ফ্রেঞ্চাইজি দলের কোচ ছিলেন।  

বিএনপির মহাসমাবেশকে ঘিরে খুলনায় জরুরি সভা


১১ জুন ঢাকা মহাসমাবেশকে সামনে রেখে খুলনায় এক জরুরি সভা করেছে বিএনপি। শনিবার দুপুরে খুলনা মহানগর বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
খুলনা বিএনপির এ সভায় নগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপির সভাপতিত্বে বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সৈয়দা নার্গিস আলী, এসএম মোর্শেদ আলম, সেকেন্দার জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, আব্দুল জলিল খান কালাম, অ্যাডভোকেট বজলার রহমান, রেহেনা ঈসা, ফকরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
১১ জুন ঢাকায় মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষ্য মহানগর বিএনপির অন্তর্গত সব থানা ও ওয়ার্ড বিএনপিসহ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন বিভিন্ন পর্যায়ে প্রস্তুতি সভার মাধ্যমে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভিডিও ক্লিপ দেখানোর পরামর্শ নজরুলের


সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার জন্য দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামের কথা অস্বীকার করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। 


সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সে সময়ের ও এখনকার ভিডিও ক্লিপ দেখানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘তাহলেই তার সব কিছু মনে পড়ে যাবে।’ 

জিয়াউর রহমানের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী (৩০ মে) উপলক্ষে শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব) ঢাকা শাখা আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ পরামর্শ দেন।

অ্যাব সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন- বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব চাষী নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

‘আজ গণতন্ত্র আসলেই বিপন্ন’ মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে বলেছেন। কিন্তু বিপদে পড়লে মানুষ যার কাছে যাবে তারাই যদি বিপজ্জনক হয় তাহলে আমরা কার কাছে যাবো?’

‘পূর্ণাঙ্গ রায় আসার আগেই তত্ত্বাবধায়ক উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে’ অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘এখন সরকারের প্রধান সঙ্গী স্বৈরাচার এরশাদ, যার বিরুদ্ধে ১৯৮০ থেকে ’৯০ পর্যন্ত সংগ্রাম করেছি। যাকে সরাতে সাধারণ মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে।’ 

জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘জনগণ থেকে সরকার এখন অনেক দূরে সরে যাচ্ছে। মরণের আগে একটিবার হলেও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। আর কোন ধরনের নির্বাচন দেশে হবে না।’

তিনি বলেন, ‘হারুন (পুলিশ কর্মকর্তা) আমার পা ভাঙ্গতে পারে। ফখরুলরা জেলে যেতে পারেন। কিন্তু কেউ নিরাশ হবেন না। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবো।’ 

যোগাযোগ ও রেলপথ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা কি করতে পারি না, সেটা বলুন। পুলিশ বাহিনীকে আমাদের দিকে একটিবার নিরপেক্ষভাবে তাকাতে বলুন, তাহলে আমরা সবই করতে পারি।’ 

সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘৭ নভেম্বরের চেয়ে এখন খারাপ অবস্থা। পার্শ্ববর্তী দেশ দিয়ে আমাদের দেশ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ইকোনোমিস্ট লেখা হচ্ছে- হ্যালো ইন্ডিয়া , কন্ট্রোল হাসিনা। এ ঘটনায় অন্য কেউ হলে পদত্যাগ করতো। শেখ হাসিনার লজ্জা নেই বলে পদত্যাগ করছেন না।’

তিনি বলেন, ‘১১ জুন খালেদার ডাকের অপেক্ষা করছি। ১৯৭১ এর আগের যেমন কারো কেনা স্বপ্ন ছিলো না। দেশ স্বাধীন না হলে আমরা যেমন কিছুই করতে পারতাম না। এখনো সে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আসুন শেষ লড়াইটা করে দেখি। দিল্লির নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশ রক্ষা করতে হবে।’

বিদেশিদের মতো সমান সুযোগ চাইলো রিহ্যাব-বিএলডিএ





 দেশের আবাসন শিল্প রক্ষায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মতো সমান সুযোগ চাইলো রিহ্যাব ও বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএলডিএ)।

শনিবার সকালে রূপসী বাংলা হোটেলে রাজধানীর আশপাশে স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা ও রিহ্যাবের অবস্থানবিষয়ক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দাবি জানানো হয়।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিএলডিএর প্রেসিডেন্ট ও দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ী গ্রুপ বসুন্ধরার চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ‘একজন ব্যবসায়ী হিসেবে বিদেশি বিনিয়োগকে আমি স্বাগত জানাই। তবে তার আগে দেশীয় কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের কারণে আমরা হাজার হাজার ফ্ল্যাট হস্তান্তর করতে পারছি না। সরকার বিদেশি কোম্পানিগুলোকে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে দেশীয় কোম্পানিগুলোকেও একই ধরনের সুযোগসুবিধা দেওয়া উচিৎ। তবেই একটি সুষ্ঠু ও সমপর্যায়ের প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে।’

‘বিদেশি কোম্পানিগুলো যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের কথা বলছে, তার চাইতে বেশি বিনিয়োগ করতে পারে দেশের ব্যবসায়ীরা।’

বিএলডিএ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নিঝুম দ্বীপ, মিরসরাইসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় লাখ লাখ একর জমি পড়ে আছে, বিদেশি কোম্পানিগুলোকে ঢাকায় জমি না দিয়ে সেসব জায়গায় বিনিয়োগের জন্য জমি দেওয়া যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে এক লাখ একর জমি দেওয়ার সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করলে, রিহ্যাব ও বিএলডিএর সঙ্গেও এক লাখ করে দুই লাখ একর জমি দেওয়ার সমঝোতা সই করুক।’

এর কারণ হিসেবে বিএলডিএ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সরকার জমি অধিগ্রহণ করে বিঘাপ্রতি এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকায়। অন্য দিকে, আমাদের মতো কোম্পানিগুলোকে জমি কিনতে হয় বিঘাপ্রতি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি টাকায়। এর ফলে ঢাকার আশেপাশে সরকারি জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে নানা অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। কিন্তু কোনো দেশি কোম্পানি জমি কিনতে গেলে কৃষকের স্বার্থ রক্ষা হয়, এতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় না।’

আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ‘সরকার বিদেশি কোম্পানিকে জমি দিলে সরকারি ও বেসরকারি জমির মূল্যের যে ব্যবধান হবে তাতেই একটি অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে। এক্ষেত্রে কৃষককে বঞ্চিত না করে সুষম প্রতিযোগিতার জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) বিকল্প নেই।’

‘আমি মনে করি, দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হোক, তা কোনো সরকারই চাইবে না। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার আমাদের বারবার বলেছে, তারা আমাদের জমি দেবে এবং আমরা ডেভেলপ করব।’

ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী গ্রুপ সাহারার কর্ণধার সুব্রত রায় সাহারা ঢাকাকে কংক্রিটের জঙ্গল বানানোর যে অভিযোগ করেছেন সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় নগরায়নের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জমি। সুষ্ঠু নগরায়নের জন্য পরিকল্পনা মাফিক জমি পাওয়া যায়নি অথবা আরবান প্ল্যান না থাকায় এটা হয়েছে। ভারতে জমি সহজেই পাওয়া যায়, সরকার আমাদের সেভাবে জমি দিলে আমরা তাদের চেয়ে অনেক ভালো নগর গড়তে পারব।’

রাজউক সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রাজউক নামের যে প্রতিষ্ঠান আছে, তা নগরায়নের কথা বলে কিন্তু তারা নিজেরাই তা মানে না। তারা যে জমিকে জলাভূমি বলে, সেই জমিই তারা আবার ভরাট করে। বিষয়টি সাংবাদিকদের খেয়াল রাখা দরকার।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট নসরুল হামিদ বিপু। তিনি বলেন, ‘আমরা সামগ্রিকভাবে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে কথা বলতে চাই, কিন্তু কোনো বিশেষ কোম্পানিকে নিয়ে নয়। আমি সরকারকে অনেকবার বলেছি, আমাদের জমি দিতে হবে। আজ আবারও বলছি।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আবাসন খাতের একটি খারাপ সময় যাচ্ছে। এ শিল্পে ইতিমধ্যেই ৭০ ভাগ বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সরকার সহযোগিতা না করলে টিকে থাকা মুশকিল হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের যুগ্ম-সম্পাদক মেজর (অব.) জামশেদ হাসান পিএসসি, আরশি হায়দার, রিহ্যাবের ল্যান্ড স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মো. আকতার বিশ্বাস, এম আনিসুজ্জামান ভূঁইয়া রানা, বিল্ডিং টেকিনোলজি অ্যান্ড আইডিয়াজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এফ আর খান প্রমুখ।

শুক্রবার, ১ জুন, ২০১২

এই মূহুর্তের খবর ও জন দূর্ভোগ ।: গতির ঝড় তুললেন বোল্ট স্পোর্টস করেসপন্টেন্ড বছরের সেরা টাইমিং দিয়ে আবারো ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন অলিম্পিক স্বর্ণ বিজয়ী অ্যাথলেট উসাইন বোল্ট। শুক্রবার রোম ডায়মন্ড লিগে ৯.৭৬ সেকেন্ড সময় নেন এই জ্যামাইকান।

গতির ঝড় তুললেন বোল্ট স্পোর্টস করেসপন্টেন্ড বছরের সেরা টাইমিং দিয়ে আবারো ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন অলিম্পিক স্বর্ণ বিজয়ী অ্যাথলেট উসাইন বোল্ট। শুক্রবার রোম ডায়মন্ড লিগে ৯.৭৬ সেকেন্ড সময় নেন এই জ্যামাইকান।
বিস্তারিত>http://wwwnewsdaily.blogspot.com/2012/06/blog-post_4227 html

গতির ঝড় তুললেন বোল্ট স্পোর্টস করেসপন্টেন্ড বছরের সেরা টাইমিং দিয়ে আবারো ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন অলিম্পিক স্বর্ণ বিজয়ী অ্যাথলেট উসাইন বোল্ট। শুক্রবার রোম ডায়মন্ড লিগে ৯.৭৬ সেকেন্ড সময় নেন এই জ্যামাইকান।

বছরের সেরা টাইমিং দিয়ে আবারো ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন অলিম্পিক স্বর্ণ বিজয়ী অ্যাথলেট উসাইন বোল্ট। শুক্রবার রোম ডায়মন্ড লিগে ৯.৭৬ সেকেন্ড সময় নেন এই জ্যামাইকান ।

অনেক দিন ধরেই সময় ভাল যাচ্ছিলো না বেইজিং অলিম্পিকে দ্যুতি ছড়ানো বোল্টের। গত শুক্রবারও বাজে পারফর্ম দেখিয়েছেন চেক রিপাবলিকের অস্ত্রাভাতে। সেখানে ১০.০৪ সেকেন্ড নেন বিশ্বরেকর্ডধারী এই অ্যাথলেট তারকা। তবে রোম ডায়মন্ড লিগে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে প্রতিযোগিতার রেকর্ড টাইমিং গড়ার মধ্যদিয়েই ফের নিজেকে মেলে ধরলেন ‘বিদ্যুতচমক’ খ্যাত বোল্ট।

প্রতিযোগিতায় ৯.৯১ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হন বোল্টের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অপর জ্যামাইকান তারকা আসাফা পাওয়েল। অন্যদিকে ১০.০৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ক্রিস্তোফে লেমেত্রি।

অস্ত্রাভার বাজে স্মৃতিকে মন থেকে মুছে ফেলতে রোমে এসে একটু বেশিই ঘুমিয়েছিলেন বোল্ট। তিনি বলেন,‘রোমে আসার পর থেকেই আমি আগেভাগেই বিছানায় যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছি। যাতে করে ভালো বিশ্রাম ও প্রচুর ঘুম হয়। অস্ত্রাভাতে আমি ভাল ঘুমাতে পারিনি। সে কারণেই অস্ত্রাভার চেয়ে এখানে (রোম) ভাল দৌড়াতে পেরেছি।’

‘অস্ত্রাভাতে আমার বাজে পারফরমেন্সের পর অনেকেই আমার ফিরে আসার ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু আমি কখনোই নিজের বিষয়ে সংশয়ে পড়িনি। নিজেকে নিয়ে সবসময়েই নির্ভার ছিলাম। যদিও এটি (রোম) আমার কাছে নিখুঁত মনে হয়নি। কিন্তু উন্নতি হয়েছে। আমি ভালোভাবেই দৌড় সম্পন্ন করতে পেরেছি। আমার গতি তুলনামূলক ভাল ছিল এবং শুরুটাও ভাল করতে পেরেছিলাম। ফর্মে ফিরতে পারায় ভাল লাগছে।’ বলেন অলিম্পিকে তিন স্বর্ণপদকজয়ী ২৫ বছরের এই অ্যাথলেট।

এই মূহুর্তের খবর ও জন দূর্ভোগ ।: প্রযুক্তি

ইন্টারনেট মুসক প্রত্যাহারের প্রস্তাব



জাতীয় বাজেট ২০১২-১৩ ঘোষণার প্রাক্কালে বেসিসের একটি প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে অর্থমন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈঠকে বসেন। পরে অর্থমন্ত্রী বেসিসের প্রস্তাবগুলোর যৌক্তিক বিবেচনার কথা জানান।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রয়োজনীয় বরাদ্দ এবং মূল্য সংযোজন কর সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনার জন্য আয়োজিত এ সভায় জাতীয় আইসিটি নীতিমালা ২০০৯ সালের আলোকে আইটি ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট ফান্ড গঠনের জন্য অন্তত ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আগামী দু বছরের মধ্যে ১০ হাজার দক্ষ আইটি প্রফেশনাল তৈরির জন্য ক্র্যাশ ট্রেনিং প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা, ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর থেকে ১৫ ভাগ মূসক প্রত্যাহার, ই-কমার্স লেনদেনে মূসক প্রত্যাহার, সফটওয়্যার ও আইটিইএসয়ের জন্য নতুন একটি সার্ভিস কোড প্রযোজ্য করা, ঢাকা শহরেই অন্তত ৫টি সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। অর্থমন্ত্রী বেসিসের এসব প্রস্তাব বিবেচনার কথা জানান।

এ সভায় বেসিসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি একেএম ফাহিম মাশরুর, সহ-সভাপতি ফারহানা এ রহমান, মহাসচিব ফোরকান বিন কাশেম এবং বেসিস ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট ডেভেলপমেন্ট কমিটির সভাপতি শামিম আহসান উপস্থিত ছিলেন।





পাওনা আদায়ে অফিস ভাংচুর, এমডি আটক

এই মূহুর্তের খবর ও জন দূর্ভোগ ।: অপরাধ
পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান স্কাই ল্যান্সারের অফিস ঘেরাও ও ভাংচুর করেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা। পুলিশ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খলিলুর রহমান নীলকে আটক করেছে।

শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর কলাবাগান থানার ধানমণ্ডি রাসেল স্কয়ার সংলগ্ন ডলফিন রোডে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বেতন-ভাতা আদায়ের লক্ষ্যে স্কাই ল্যান্সারের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করেন। বিক্ষুব্ধ কর্মীরা একপর্যায়ে অফিসটিতে ভাংচুর চালান। খবর পেয়ে কলাবাগান থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ পরে প্রতিষ্ঠানটির এমডি খলিলুর রহমান নীলকে আটক করে কলাবাগান থানায় নিয়ে আসে। কর্মীরা পরে থানায় গিয়ে পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

কলাবাগান থানার ওসি জানান, কোম্পানির এমডি খলিলুর রহমান নীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। চেয়ারম্যানকে আটকে পুলিশি অভিযান চলছে। কর্মীরা এখনো থানায় আছেন। পুলিশ অভিযোগ শুনছে এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

হাতিয়ায় জলদস্যু সর্দার বোরহান শিকদার গ্রেফতার

এই মূহুর্তের খবর ও জন দূর্ভোগ ।: অপরাধ
 নোয়াখালীর হাতিয়ার মেঘনা উপকূলের জলদস্যু সর্দার ও ডজন দুই ডাকাতি আর খুনের মামলার আসামি বোরহান শিকদারকে (৩৩) বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গ্রেফতার করেছে হাতিয়া থানা পুলিশ। 

উপজেলার নঙ্গীয়ার চরের দরবেশ বাজারে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তার হোসেন বাংলানিউজকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গভীর রাতে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে বোরহানকে গ্রেফতার করা হয়। তবে গ্রেফতারের সময় তার কাছে কোন অস্ত্র পাওয়া যায়নি।

জলদস্যু বোরহান শিকদারের বিরুদ্ধে হাতিয়া, সুবর্ণচর, ভোলাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, খুনসহ ২০-২৫টি মামলা রয়েছে।

হাতিয়ায় সিক্স মার্ডার ও সেভেন মার্ডারসহ ৪টি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বোরহান।

তিনি সুবর্ণচর (চরজব্বর) উপজেলার মৃত মফিজ দরবেশের ছেলে। 

এদিকে ডাকাত ও জলদস্যু বোরহান শিকদারের গ্রেফতার হওয়ার খবর শুনে স্থানীয় নঙ্গলীয়ার চরের শত শত ভূমিহীন মানুষ আনন্দ মিছিল করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

আমি মুজিব বলছি ( 14 )লেখেছেন Harun Rashid

এই মূহুর্তের খবর ও জন দূর্ভোগ ।: না বলা কথা

আমি মুজিব বলছি ( 14 )
পাকিস্তান ভাঙ্গার অভিযোগে আমাকে গ্রেপ্তার করে করে নিয়ে যাওয়া পাকিস্তান কারাগারে । আমি আগেই বলেছি আমার কবরের উপর সৃষ্টি হবে বাংলাদেশ পৃথিবীর এমন কোন শক্তি নাই তা প্রতিরোধ করতে পারে । ৭কোটি মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ ,তাই স্বাধীন রাষ্ট্র এখন ময়ের ব্যপার মাত্র ।আমি পাকিস্তানী সৈর শাসকদের বলেছি , আমাকে হত্যা করা হলে আমার মরদেহটি বাঙ্গালীজাতির কাছে তুলে দিও । আমি গ্রেপ্তার পুর্বে গভীর রাতে জাতির উদ্দ্যেশে স্বাধীনতার ঘোষনা প্রচারের জন্য টি এন্ড টির টেলেক্স ও বিি আরের বেতার যন্র ব্যবহার করি । স্বাধীনতার ঘোষনা ঃ
" এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা । আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন ।
বাংলাদেশের মানুষ যে যেখানে আছেন ,আপনাদের যা কিছু আছে তা দিয়ে সেনাবাহীনির দখলদারির মোকাবোলা করার জন্য আমি আহবান জানাচ্ছি । পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটি কে বাংলার মাটি থেকে করা এবং চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আপনাদেরকে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে ।

গুম ও মানবাধিকার

এই মূহুর্তের খবর ও জন দূর্ভোগ ।: না বলা কথা


বাংলাদেশে সাম্প্রতিককালে জোরপূর্বক নিরুদ্দেশকরণ তথা গুমের ঘটনা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসেবে ২০১২ সালেই এ পর্যন্ত প্রায় ২২ জন গুম হয়েছেন। আরেকটি মানবাধিকার সংস্থা অধিকার-এর হিসাবমতে ২০১০ থেকে এ পর্যন্ত নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৫০।
গুম শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ বাংলা একাডেমীর বাংলা-ইংরেজি  অভিধানে লেখা আছে-Carried off, concealed, kidnapped, carried away and confined unlawfully and with a motive। ইংরেজি যে প্রতিশব্দ দেওয়া হয়েছে সে প্রতিশব্দের সাথে ব্যবহারিক  শব্দের বেশ ফারাক। গুমের একটি ইংরেজি অনুবাদ করা হয়েছে কিডন্যাপ বা অপহরণ। কিন্তু, কিডন্যাপিং বাংলাদেশের আইনে ভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। 
জাতিসংঘের একটি কনভেনশন আছে-International Convention for the Protection of All Persons from Enforced Disappearance-বাংলা করলে যার মানে দাঁড়াবে-জোরপূর্বক মানব-গুমের বিরুদ্ধে সুরক্ষা কনভেনশন। এই কনভেনশনে স্বাক্ষরদানকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নাম নেই। 
মানব-গুমের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে কনভেনশনে এভাবে, ”রাষ্ট্র  অথবা রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত এজেন্ট, গোষ্ঠী বা রাষ্ট্রীয় অনুমোদনে/সম্মতিক্রমে সংগঠিত গ্রেপ্তার, আটকাদেশ, অপহরণ বা অন্য কোনো ধরনের অধিকারহরণ যার মধ্যে আটকাবস্থার কথা অস্বীকার, সর্বশেষ অবস্থান বা ভাগ্য সম্পর্কে জানতে না দেওয়া, যার মাধ্যমে আইনের আশ্রয়লাভ থেকে বঞ্চিত করা হয়।”
ইংরেজি abduction শব্দের বাংলা অপবাহন। কারণ, অপহরণ (kidnapping) এবং  অপবাহনের (abduction) মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অপবাহনের সংজ্ঞা দণ্ডবিধিতে দেওয়া হয়েছে এভাবে-”যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে কোন স্থান হতে গমন করার জন্য জোরপূর্বক বাধ্য করে বা কোন প্রতারণামূলক উপায়ে প্রলুদ্ধ করে, সে ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তিকে অপবাহন (abduction) করে বলে গণ্য হবে। অপহরণের ক্ষেত্রে যেখানে হরণকৃত নাবালক অথবা অপ্রকৃতস্থ ব্যক্তিকে শুধুমাত্র হরণকারীর সাথে নিয়ে যাওয়া হয় অথবা যেতে প্ররোচিত করা হয়। কিন্তুু অপবাহনের ক্ষেত্রে প্রতারণা, ভয় এবং বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়।
যেহেতু জোরপূর্বক মানব-গুমের বিরুদ্ধে সুরক্ষা কনভেনশনে বাংলাদেশ এখনও স্বাক্ষর করেনি, সেহেতু বাংলাদেশের উপর এই কনভেনশন মানার বাধ্যবাধকতা নেই। কনভেনশনের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে গুমকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
মানব-গুমের এই প্রবণতা বজায় থাকলে বাংলাদেশের জন্য এই কনভেনশনে স্বাক্ষর করা জরুরি হয়ে দাঁড়াবে।জোরপূর্বক মানব-গুম একটি জঘন্য অপরাধ যা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে।
জোরপূর্বক মানব-গুমের বিরুদ্ধে সুরক্ষা কনভেনশনের ৫ নং অনুচ্ছেদে গুমকে আন্তর্জাতিক আইনে বিচারযোগ্য মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ কখনও এই কনভেনশনে স্বাক্ষর করলে গুমের সাথে জড়িতদের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচারের মুখোমুখি হতে পারে। 

আমি কারে ধরে কাঁদবো রে মা!

এই মূহুর্তের খবর ও জন দূর্ভোগ ।: না বলা কথা



শরিয়তপুর সখীপুর আরশীনগর থেকে: আরশীনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরদার কাঁদছেন অথচ চোখ থেকে জল পড়ছে না। কান্নার রং কি তা ভুলে গেছে তিনি। চোখের পাতা ফোলা। যেনো রক্ত জমাট বেঁধেছে তার দু`চোখে। বারবার ম‍ূর্ছা যাচ্ছেন। টানা দু’দিন অবিরাম কেঁদে চোখের সব জল যেনো শুকিয়ে গেছে আরশিনগরের চেয়ারম্যানের! তবে জল শুকিয়ে গেলেও তার চিহ্ন রয়ে গেছে জাকির চেয়ারম্যানের চোখে মুখে।

শুক্রবার সরেজমিন বাংলানিউজের ফটো সাংবাদিক নাজমুল হাসান ও বাংলানিউজের শরিয়তপুর জেলা প্রতিনিধি শহিদুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে সখীপুর থানার আরশীনগর গ্রামে পা রাখতেই দেখা গেছে শোকের মাতম।

চেয়ারম্যানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের ১১ জনকে হারিয়ে যেনো বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন চেয়ারম্যান জাকির সরদার। যাকে দেখছেন, শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকছেন। কখনো জোরে চিৎকার দিয়ে বুক চাপড়াচ্ছেন। আর আহাজারি করে বলছেন, ‘১১ লাশের শোক আমি কীভাবে সইবো রে আল্লাহ!’

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একমাত্র আদরের মেয়ে লুমাইসা লুবারের (১৩) উদ্দেশ্যে কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, ‘কবর থেকে উঠে আয় রে মা! মারে আমি তোরে ধইরা একটু কাঁদতে চাই। আমার বুকের মানিক আমার বুকে আয়... বুকে আয় লুবাব...। আমারে শক্ত কইরা ধইরা আমার বুকে মাথাটা রাখ। আমি আর সইতে পারছি নারে মা! আমি কারে ধরে কাঁদবো রে মা!’

ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে শুক্রবার সকালে আরশিনগরের চেয়ারম্যান বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সমবেদনা জানাতে ভিড় করছেন আত্মীয়স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী আর আশপাশের গ্রামের মানুষ। সেখানে জাকির সরদারের দিকে তাকিয়ে চোখের জল মোছেননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাসহ স্থানীয় জনসাধারণ জাকির চেয়ারম্যানকে দেখতে আসছেন। তবে কেউ সান্ত্বনা দেওয়ার সাহস করছেন না।

কীভাবে সান্ত্বনা দেবেন আরশিনগরের সবার প্রিয় মানুষ ও জনগণের সেবক হিসেবে পরিচিত জাকির চেয়ারম্যানকে। সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষাও যেনো সবাই হারিয়ে ফেলেছেন।

বাংলানিউজের প্রতিবেদকের হাত ধরে চিৎকার দিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভাই রে আমি আর শোক সইতে পারছি না। আমার নিজে শেষ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

এ সময় জাকির চেয়ারম্যান ওপরে দু’হাত তুলে বলেন, ‘আল্লাহ আমি আত্মহত্যা না করলে আমি আর বাঁচতে পারবো না। আমারে তুমি ক্ষমা করে দিও। আমার এ ছাড়া আর কোনো পথ নেই। কি নিয়ে বাঁচবো আমি...।’

এ সময় উপস্থিত অনেকেই চোখের জল মোছেন।

তিনি সরকারের প্রতি, যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আর কত লাশ হলে সরকারের কানে যাবে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে।’

বুক চাপড়ে বলেন, ‘এত দাবি, এত মানববন্ধন এত লেখালেখি তারপরও কি সরকারের কানে এসব যায় না।’

ভেদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবদুল মান্নান হাওলাদার বাংলানিউজকে বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে যে হারিয়েছে, তাকে কীভাবে সান্ত্বনা দেবো? স্ত্রী, মেয়ে, বোন, ভগ্নিপতি, ভাগ্নে ও ভাগ্নি সব হারানো একটা মানুষকে সান্ত্বনা দেওয়ার তো কোনো ভাষা থাকে না।’

জাকির হোসেন সর্দারের ভাই অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শরিয়তপুরের ইতিহাসে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের ১১ জন মারা যায়নি।’

উল্লেখ্য, রাজধানীর অদূরে বুধবার কেরানীগঞ্জের কদমপুর এলাকায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিদের সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী। তাদের মধ্যে দশজন শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখীপুর থানার আরশিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির সর্দারের পরিবারের সদস্য। বাকি দুজন গৃহকর্মী ও গাড়িচালক। নিহতরা হলেন: ইউপি চেয়ারম্যান জাকির সর্দারের স্ত্রী বেবী সর্দার (৪৪), মেয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী লুমাইসা লুবার (১৩), জাকিরের বড় বোন ফেরদৌসী বেগম (৪৭) ও তার ছেলে সায়েম হাসান (১৫), জাকিরের ছোট বোন রোজিন (৩৩) ও তার স্বামী সাউথইস্ট ব্যাংক মতিঝিল শাখার কর্মকর্তা রেজাউল আমিন (৩৮), তাদের ছেলে ইয়াশ (৮) ও মেয়ে ইশরা (২), জাকিরের মেজো বোন ফাতেমার মেয়ে তাজরিয়া (১২), গৃহকর্মী কোহিনূর (১৫) ও খুশি (১৪) এবং গাড়িচালক সোহেল রানা (৩৫)।

আমি কারে ধরে কাঁদবো রে মা!

এই মূহুর্তের খবর ও জন দূর্ভোগ ।: না বলা কথা



শরিয়তপুর সখীপুর আরশীনগর থেকে: আরশীনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরদার কাঁদছেন অথচ চোখ থেকে জল পড়ছে না। কান্নার রং কি তা ভুলে গেছে তিনি। চোখের পাতা ফোলা। যেনো রক্ত জমাট বেঁধেছে তার দু`চোখে। বারবার ম‍ূর্ছা যাচ্ছেন। টানা দু’দিন অবিরাম কেঁদে চোখের সব জল যেনো শুকিয়ে গেছে আরশিনগরের চেয়ারম্যানের! তবে জল শুকিয়ে গেলেও তার চিহ্ন রয়ে গেছে জাকির চেয়ারম্যানের চোখে মুখে।

শুক্রবার সরেজমিন বাংলানিউজের ফটো সাংবাদিক নাজমুল হাসান ও বাংলানিউজের শরিয়তপুর জেলা প্রতিনিধি শহিদুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে সখীপুর থানার আরশীনগর গ্রামে পা রাখতেই দেখা গেছে শোকের মাতম।

চেয়ারম্যানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের ১১ জনকে হারিয়ে যেনো বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন চেয়ারম্যান জাকির সরদার। যাকে দেখছেন, শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকছেন। কখনো জোরে চিৎকার দিয়ে বুক চাপড়াচ্ছেন। আর আহাজারি করে বলছেন, ‘১১ লাশের শোক আমি কীভাবে সইবো রে আল্লাহ!’

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একমাত্র আদরের মেয়ে লুমাইসা লুবারের (১৩) উদ্দেশ্যে কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, ‘কবর থেকে উঠে আয় রে মা! মারে আমি তোরে ধইরা একটু কাঁদতে চাই। আমার বুকের মানিক আমার বুকে আয়... বুকে আয় লুবাব...। আমারে শক্ত কইরা ধইরা আমার বুকে মাথাটা রাখ। আমি আর সইতে পারছি নারে মা! আমি কারে ধরে কাঁদবো রে মা!’

ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে শুক্রবার সকালে আরশিনগরের চেয়ারম্যান বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সমবেদনা জানাতে ভিড় করছেন আত্মীয়স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী আর আশপাশের গ্রামের মানুষ। সেখানে জাকির সরদারের দিকে তাকিয়ে চোখের জল মোছেননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাসহ স্থানীয় জনসাধারণ জাকির চেয়ারম্যানকে দেখতে আসছেন। তবে কেউ সান্ত্বনা দেওয়ার সাহস করছেন না।

কীভাবে সান্ত্বনা দেবেন আরশিনগরের সবার প্রিয় মানুষ ও জনগণের সেবক হিসেবে পরিচিত জাকির চেয়ারম্যানকে। সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষাও যেনো সবাই হারিয়ে ফেলেছেন।

বাংলানিউজের প্রতিবেদকের হাত ধরে চিৎকার দিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভাই রে আমি আর শোক সইতে পারছি না। আমার নিজে শেষ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

এ সময় জাকির চেয়ারম্যান ওপরে দু’হাত তুলে বলেন, ‘আল্লাহ আমি আত্মহত্যা না করলে আমি আর বাঁচতে পারবো না। আমারে তুমি ক্ষমা করে দিও। আমার এ ছাড়া আর কোনো পথ নেই। কি নিয়ে বাঁচবো আমি...।’

এ সময় উপস্থিত অনেকেই চোখের জল মোছেন।

তিনি সরকারের প্রতি, যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আর কত লাশ হলে সরকারের কানে যাবে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে।’

বুক চাপড়ে বলেন, ‘এত দাবি, এত মানববন্ধন এত লেখালেখি তারপরও কি সরকারের কানে এসব যায় না।’

ভেদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবদুল মান্নান হাওলাদার বাংলানিউজকে বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে যে হারিয়েছে, তাকে কীভাবে সান্ত্বনা দেবো? স্ত্রী, মেয়ে, বোন, ভগ্নিপতি, ভাগ্নে ও ভাগ্নি সব হারানো একটা মানুষকে সান্ত্বনা দেওয়ার তো কোনো ভাষা থাকে না।’

জাকির হোসেন সর্দারের ভাই অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শরিয়তপুরের ইতিহাসে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের ১১ জন মারা যায়নি।’

উল্লেখ্য, রাজধানীর অদূরে বুধবার কেরানীগঞ্জের কদমপুর এলাকায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিদের সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী। তাদের মধ্যে দশজন শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখীপুর থানার আরশিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির সর্দারের পরিবারের সদস্য। বাকি দুজন গৃহকর্মী ও গাড়িচালক। নিহতরা হলেন: ইউপি চেয়ারম্যান জাকির সর্দারের স্ত্রী বেবী সর্দার (৪৪), মেয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী লুমাইসা লুবার (১৩), জাকিরের বড় বোন ফেরদৌসী বেগম (৪৭) ও তার ছেলে সায়েম হাসান (১৫), জাকিরের ছোট বোন রোজিন (৩৩) ও তার স্বামী সাউথইস্ট ব্যাংক মতিঝিল শাখার কর্মকর্তা রেজাউল আমিন (৩৮), তাদের ছেলে ইয়াশ (৮) ও মেয়ে ইশরা (২), জাকিরের মেজো বোন ফাতেমার মেয়ে তাজরিয়া (১২), গৃহকর্মী কোহিনূর (১৫) ও খুশি (১৪) এবং গাড়িচালক সোহেল রানা (৩৫)।

সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নির্যাতনে দুঃখ প্রকাশ

এই মূহুর্তের খবর ও জন দূর্ভোগ ।: রাজনীতি

 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি সাম্প্রতিককালে পুলিশের হাতে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি কাজের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ‘মিট দ্যা রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন,  নির্যাতনের ঘটনায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এসব ঘটনায় দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে আরো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড ও বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ঘটনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা যাবে না।

‘সাগর-রুনির খুনিদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হবে’ এ কথা তিনি বলেননি দাবি করে সাহারা খাতুন বলেন, ‘আমি শুধু পুলিশকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলাম। এটা পুলিশকে চাপ দেওয়ার জন্য বলেছিলাম। কিন্তু আমি কখনোই বলিনি যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতার করা হবে।’

পুলিশ থেকে দূরে থেকে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের প্রতি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পরামর্শ প্রদান প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার কাছে বলেছেন, তিনি এ ধরনের কথা বলেননি। তার বক্তব্যকে বিকৃত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সেদিনের বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপিংস দেখিয়ে এটি পরীক্ষা করতে বলেছেন বলেও জানান সাহারা খাতুন।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য বিকৃতভাবে প্রকাশ করার অভিযোগ করে সাহারা খাতুন আশঙ্কা করেন, ‘হতে পারে, প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে এমন বক্তব্য প্রকাশ সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র।’

তবে তিনি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকেই এ বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করতেও আহ্বান জানান।

বিচার বহির্ভুত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, সন্ত্রাসীদের ধরতে গেলে যদি সন্ত্রাসীরা পুলিশ- ৠাবের দিকে গুলি ছোড়ে, তাহলে তারা কি করবে?
তিনি বলেন, ‘আপনারা কি চান, আমরা সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার না করি?’
সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে পুলিশ নিজেদের জীবন বাঁচাতে সন্ত্রাসীদের ওপর গুলি চালায় বলে দাবি করে সাহারা খাতুন আরো বলেন, ‘দেশের সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে হত্যা করছে। দস্যুরা নিরীহ জেলেদের আটকে রেখে চাঁদা দাবি করছে, হত্যা করছে। আর তাদের গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশ ও কোস্টগার্ডের হাতে তাদের মৃত্যু হচ্ছে। এগুলো তো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের জীবন বাঁচাতে করছে।’

তবে কাউকে যদি আগে থেকেই ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়ে থাকে, সেসব পরিবারের সদস্যদের সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ জানান স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী।  

সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাগুলোকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘ আমরা দীর্ঘদিন ক্ষমতার মধ্যে ছিলাম না। তাই অতীতে যতো সাংবাদিক হত্যা, গুম ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, সাংবাদিকদের সহযোগিতা নিয়ে সেগুলোরও বিচার করা হবে।’

সাংবাদিক নির্যাতনে বা সরকারের সঙ্গে সাংবাদিকদের দূরত্ব সৃষ্টিতে পুলিশের প্রতি কোনো সরকারি নির্দেশনা নেই বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো কোনো অতি উৎসাহী পুলিশ সদস্য সরকারকে বিব্রত করার জন্য এসব ঘটনা স্বপ্রণোদিতভাবে ঘটাতে পারেন। তবে একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব ঘটনার পেছনে সরকারের সঙ্গে সাংবাদিকদের ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টির লক্ষ্যে বাইরের কারো  কারসাজি বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেড় লাখ পুলিশ সদস্যের মধ্যে কেউ কেউ খারাপ থাকতেই পারেন। কিন্তু যারা খারাপ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।    
মন্ত্রী তার সূচনা বক্তব্যে অতীতের চেয়ে বর্তমান পরিস্থিতি অনেক ভালো উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের ভুল হতে পারে। কাজ করতে গেলে ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক। আপনারা আমাদের বাইরে নন। আমরা-আপনারা একই সমাজের অংশ। আমাদের ভুল শুধরিয়ে দিন। পরামর্শ দিন। সেটি হবে আমাদের পথচলার পাথেয়।’
রাষ্ট্র পরিচালনা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন আরো বলেন, যখন বিরোধী দলে ছিলাম, তখনও বিভিন্ন সরকারের আমলে রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে নিগৃহীত হতাম। তখন আপনারাই সেসব ঘটনা সমাজের কাছে তুলে ধরতেন। তখনকার আপনাদের কার্যক্রমের কারণেই আজ আমি এ জায়গায় এসেছি।’
তিনি বিরোধী দলে থাকতে যেভাবে সহযোগিতা করছেন, সরকারে থাকতেও সেভাবেই সহযোগিতা করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রের উন্নয়নে সুষ্ঠু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে যে দায়িত্ব  দিয়েছেন, তা অত্যন্ত কঠিন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের চেষ্টা করেছি।’
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা গত ১০ বছরের চেয়ে ভালো, এটা তারই প্রমাণ। এ প্রসঙ্গে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ নির্মূল, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধার মামলা ও বিডিআর (বিজিবি) হত্যাকাণ্ডের বিচার, শিল্প পুলিশ প্রতিষ্ঠা, গাড়ি চোর প্রতিরোধ, টেলিফোনে হুমকি ও সাইবার ক্রাইম বিরোধী আইন প্রণয়ন ও কার্যক্রম, নারী-শিশু পাচার রোধসহ গত সাড়ে ৩ বছরে নেওয়া সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং অর্জিত সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।
ডিআরইউ’র সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।