শনিবার, ২ জুন, ২০১২

জাতীয় দলের কোচ পাইবাস এখন ঢাকায় স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট জাতীয় দলের প্রধান কোচ পাইবাস ঢাকায় এসেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বসতি গড়া এই ইংলিশ কোচ ‘অন-অ্যারাইভাল’ ভিসা নিয়ে ‘ইমিগ্রেশন’ পার হন। বাংলাদেশের নতুন কোচ রোববার থেকে কাজে লেগে পড়বেন বলে জানিয়েছে বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ। 

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র সঙ্গে আপাতত দুই বছরের চুক্তি হবে জাতীয় দলের নতুন কোচের। স্টুয়ার্ট ল’র উত্তরসূরী পাইবাস জাতীয় দল নিয়ে ১২ জুন জিম্বাবুয়ে সফরে যাবেন ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলার জন্য। 

পাইবাস ১৯৯৯-২০০১ ও ২০০৩ সালে পাকিস্তান জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর কোন আন্তর্জাতিক দলের কোচ ছিলেন না। দক্ষিণ আফ্রিকায় তিনটি ক্লাব ও ফ্রেঞ্চাইজি দলের কোচ ছিলেন।  

বিএনপির মহাসমাবেশকে ঘিরে খুলনায় জরুরি সভা


১১ জুন ঢাকা মহাসমাবেশকে সামনে রেখে খুলনায় এক জরুরি সভা করেছে বিএনপি। শনিবার দুপুরে খুলনা মহানগর বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
খুলনা বিএনপির এ সভায় নগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপির সভাপতিত্বে বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সৈয়দা নার্গিস আলী, এসএম মোর্শেদ আলম, সেকেন্দার জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, আব্দুল জলিল খান কালাম, অ্যাডভোকেট বজলার রহমান, রেহেনা ঈসা, ফকরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
১১ জুন ঢাকায় মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষ্য মহানগর বিএনপির অন্তর্গত সব থানা ও ওয়ার্ড বিএনপিসহ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন বিভিন্ন পর্যায়ে প্রস্তুতি সভার মাধ্যমে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভিডিও ক্লিপ দেখানোর পরামর্শ নজরুলের


সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার জন্য দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামের কথা অস্বীকার করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। 


সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সে সময়ের ও এখনকার ভিডিও ক্লিপ দেখানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘তাহলেই তার সব কিছু মনে পড়ে যাবে।’ 

জিয়াউর রহমানের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী (৩০ মে) উপলক্ষে শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব) ঢাকা শাখা আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ পরামর্শ দেন।

অ্যাব সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন- বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব চাষী নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

‘আজ গণতন্ত্র আসলেই বিপন্ন’ মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে বলেছেন। কিন্তু বিপদে পড়লে মানুষ যার কাছে যাবে তারাই যদি বিপজ্জনক হয় তাহলে আমরা কার কাছে যাবো?’

‘পূর্ণাঙ্গ রায় আসার আগেই তত্ত্বাবধায়ক উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে’ অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘এখন সরকারের প্রধান সঙ্গী স্বৈরাচার এরশাদ, যার বিরুদ্ধে ১৯৮০ থেকে ’৯০ পর্যন্ত সংগ্রাম করেছি। যাকে সরাতে সাধারণ মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে।’ 

জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘জনগণ থেকে সরকার এখন অনেক দূরে সরে যাচ্ছে। মরণের আগে একটিবার হলেও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। আর কোন ধরনের নির্বাচন দেশে হবে না।’

তিনি বলেন, ‘হারুন (পুলিশ কর্মকর্তা) আমার পা ভাঙ্গতে পারে। ফখরুলরা জেলে যেতে পারেন। কিন্তু কেউ নিরাশ হবেন না। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবো।’ 

যোগাযোগ ও রেলপথ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা কি করতে পারি না, সেটা বলুন। পুলিশ বাহিনীকে আমাদের দিকে একটিবার নিরপেক্ষভাবে তাকাতে বলুন, তাহলে আমরা সবই করতে পারি।’ 

সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘৭ নভেম্বরের চেয়ে এখন খারাপ অবস্থা। পার্শ্ববর্তী দেশ দিয়ে আমাদের দেশ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ইকোনোমিস্ট লেখা হচ্ছে- হ্যালো ইন্ডিয়া , কন্ট্রোল হাসিনা। এ ঘটনায় অন্য কেউ হলে পদত্যাগ করতো। শেখ হাসিনার লজ্জা নেই বলে পদত্যাগ করছেন না।’

তিনি বলেন, ‘১১ জুন খালেদার ডাকের অপেক্ষা করছি। ১৯৭১ এর আগের যেমন কারো কেনা স্বপ্ন ছিলো না। দেশ স্বাধীন না হলে আমরা যেমন কিছুই করতে পারতাম না। এখনো সে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আসুন শেষ লড়াইটা করে দেখি। দিল্লির নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশ রক্ষা করতে হবে।’

বিদেশিদের মতো সমান সুযোগ চাইলো রিহ্যাব-বিএলডিএ





 দেশের আবাসন শিল্প রক্ষায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মতো সমান সুযোগ চাইলো রিহ্যাব ও বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএলডিএ)।

শনিবার সকালে রূপসী বাংলা হোটেলে রাজধানীর আশপাশে স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা ও রিহ্যাবের অবস্থানবিষয়ক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দাবি জানানো হয়।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিএলডিএর প্রেসিডেন্ট ও দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ী গ্রুপ বসুন্ধরার চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ‘একজন ব্যবসায়ী হিসেবে বিদেশি বিনিয়োগকে আমি স্বাগত জানাই। তবে তার আগে দেশীয় কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের কারণে আমরা হাজার হাজার ফ্ল্যাট হস্তান্তর করতে পারছি না। সরকার বিদেশি কোম্পানিগুলোকে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে দেশীয় কোম্পানিগুলোকেও একই ধরনের সুযোগসুবিধা দেওয়া উচিৎ। তবেই একটি সুষ্ঠু ও সমপর্যায়ের প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে।’

‘বিদেশি কোম্পানিগুলো যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের কথা বলছে, তার চাইতে বেশি বিনিয়োগ করতে পারে দেশের ব্যবসায়ীরা।’

বিএলডিএ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নিঝুম দ্বীপ, মিরসরাইসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় লাখ লাখ একর জমি পড়ে আছে, বিদেশি কোম্পানিগুলোকে ঢাকায় জমি না দিয়ে সেসব জায়গায় বিনিয়োগের জন্য জমি দেওয়া যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে এক লাখ একর জমি দেওয়ার সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করলে, রিহ্যাব ও বিএলডিএর সঙ্গেও এক লাখ করে দুই লাখ একর জমি দেওয়ার সমঝোতা সই করুক।’

এর কারণ হিসেবে বিএলডিএ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সরকার জমি অধিগ্রহণ করে বিঘাপ্রতি এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকায়। অন্য দিকে, আমাদের মতো কোম্পানিগুলোকে জমি কিনতে হয় বিঘাপ্রতি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি টাকায়। এর ফলে ঢাকার আশেপাশে সরকারি জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে নানা অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। কিন্তু কোনো দেশি কোম্পানি জমি কিনতে গেলে কৃষকের স্বার্থ রক্ষা হয়, এতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় না।’

আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ‘সরকার বিদেশি কোম্পানিকে জমি দিলে সরকারি ও বেসরকারি জমির মূল্যের যে ব্যবধান হবে তাতেই একটি অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে। এক্ষেত্রে কৃষককে বঞ্চিত না করে সুষম প্রতিযোগিতার জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) বিকল্প নেই।’

‘আমি মনে করি, দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হোক, তা কোনো সরকারই চাইবে না। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার আমাদের বারবার বলেছে, তারা আমাদের জমি দেবে এবং আমরা ডেভেলপ করব।’

ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী গ্রুপ সাহারার কর্ণধার সুব্রত রায় সাহারা ঢাকাকে কংক্রিটের জঙ্গল বানানোর যে অভিযোগ করেছেন সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় নগরায়নের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জমি। সুষ্ঠু নগরায়নের জন্য পরিকল্পনা মাফিক জমি পাওয়া যায়নি অথবা আরবান প্ল্যান না থাকায় এটা হয়েছে। ভারতে জমি সহজেই পাওয়া যায়, সরকার আমাদের সেভাবে জমি দিলে আমরা তাদের চেয়ে অনেক ভালো নগর গড়তে পারব।’

রাজউক সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রাজউক নামের যে প্রতিষ্ঠান আছে, তা নগরায়নের কথা বলে কিন্তু তারা নিজেরাই তা মানে না। তারা যে জমিকে জলাভূমি বলে, সেই জমিই তারা আবার ভরাট করে। বিষয়টি সাংবাদিকদের খেয়াল রাখা দরকার।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট নসরুল হামিদ বিপু। তিনি বলেন, ‘আমরা সামগ্রিকভাবে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে কথা বলতে চাই, কিন্তু কোনো বিশেষ কোম্পানিকে নিয়ে নয়। আমি সরকারকে অনেকবার বলেছি, আমাদের জমি দিতে হবে। আজ আবারও বলছি।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আবাসন খাতের একটি খারাপ সময় যাচ্ছে। এ শিল্পে ইতিমধ্যেই ৭০ ভাগ বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সরকার সহযোগিতা না করলে টিকে থাকা মুশকিল হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের যুগ্ম-সম্পাদক মেজর (অব.) জামশেদ হাসান পিএসসি, আরশি হায়দার, রিহ্যাবের ল্যান্ড স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মো. আকতার বিশ্বাস, এম আনিসুজ্জামান ভূঁইয়া রানা, বিল্ডিং টেকিনোলজি অ্যান্ড আইডিয়াজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এফ আর খান প্রমুখ।