সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার জন্য দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামের কথা অস্বীকার করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সে সময়ের ও এখনকার ভিডিও ক্লিপ দেখানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘তাহলেই তার সব কিছু মনে পড়ে যাবে।’
জিয়াউর রহমানের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী (৩০ মে) উপলক্ষে শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব) ঢাকা শাখা আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে দেওয়া প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ পরামর্শ দেন।
অ্যাব সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন- বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব চাষী নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
‘আজ গণতন্ত্র আসলেই বিপন্ন’ মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে বলেছেন। কিন্তু বিপদে পড়লে মানুষ যার কাছে যাবে তারাই যদি বিপজ্জনক হয় তাহলে আমরা কার কাছে যাবো?’
‘পূর্ণাঙ্গ রায় আসার আগেই তত্ত্বাবধায়ক উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে’ অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘এখন সরকারের প্রধান সঙ্গী স্বৈরাচার এরশাদ, যার বিরুদ্ধে ১৯৮০ থেকে ’৯০ পর্যন্ত সংগ্রাম করেছি। যাকে সরাতে সাধারণ মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে।’
জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘জনগণ থেকে সরকার এখন অনেক দূরে সরে যাচ্ছে। মরণের আগে একটিবার হলেও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। আর কোন ধরনের নির্বাচন দেশে হবে না।’
তিনি বলেন, ‘হারুন (পুলিশ কর্মকর্তা) আমার পা ভাঙ্গতে পারে। ফখরুলরা জেলে যেতে পারেন। কিন্তু কেউ নিরাশ হবেন না। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবো।’
যোগাযোগ ও রেলপথ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা কি করতে পারি না, সেটা বলুন। পুলিশ বাহিনীকে আমাদের দিকে একটিবার নিরপেক্ষভাবে তাকাতে বলুন, তাহলে আমরা সবই করতে পারি।’
সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘৭ নভেম্বরের চেয়ে এখন খারাপ অবস্থা। পার্শ্ববর্তী দেশ দিয়ে আমাদের দেশ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ইকোনোমিস্ট লেখা হচ্ছে- হ্যালো ইন্ডিয়া , কন্ট্রোল হাসিনা। এ ঘটনায় অন্য কেউ হলে পদত্যাগ করতো। শেখ হাসিনার লজ্জা নেই বলে পদত্যাগ করছেন না।’
তিনি বলেন, ‘১১ জুন খালেদার ডাকের অপেক্ষা করছি। ১৯৭১ এর আগের যেমন কারো কেনা স্বপ্ন ছিলো না। দেশ স্বাধীন না হলে আমরা যেমন কিছুই করতে পারতাম না। এখনো সে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আসুন শেষ লড়াইটা করে দেখি। দিল্লির নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশ রক্ষা করতে হবে।’