শনিবার, ২ জুন, ২০১২

বিদেশিদের মতো সমান সুযোগ চাইলো রিহ্যাব-বিএলডিএ





 দেশের আবাসন শিল্প রক্ষায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মতো সমান সুযোগ চাইলো রিহ্যাব ও বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএলডিএ)।

শনিবার সকালে রূপসী বাংলা হোটেলে রাজধানীর আশপাশে স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা ও রিহ্যাবের অবস্থানবিষয়ক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দাবি জানানো হয়।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিএলডিএর প্রেসিডেন্ট ও দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ী গ্রুপ বসুন্ধরার চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ‘একজন ব্যবসায়ী হিসেবে বিদেশি বিনিয়োগকে আমি স্বাগত জানাই। তবে তার আগে দেশীয় কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের কারণে আমরা হাজার হাজার ফ্ল্যাট হস্তান্তর করতে পারছি না। সরকার বিদেশি কোম্পানিগুলোকে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে দেশীয় কোম্পানিগুলোকেও একই ধরনের সুযোগসুবিধা দেওয়া উচিৎ। তবেই একটি সুষ্ঠু ও সমপর্যায়ের প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে।’

‘বিদেশি কোম্পানিগুলো যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের কথা বলছে, তার চাইতে বেশি বিনিয়োগ করতে পারে দেশের ব্যবসায়ীরা।’

বিএলডিএ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নিঝুম দ্বীপ, মিরসরাইসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় লাখ লাখ একর জমি পড়ে আছে, বিদেশি কোম্পানিগুলোকে ঢাকায় জমি না দিয়ে সেসব জায়গায় বিনিয়োগের জন্য জমি দেওয়া যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে এক লাখ একর জমি দেওয়ার সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করলে, রিহ্যাব ও বিএলডিএর সঙ্গেও এক লাখ করে দুই লাখ একর জমি দেওয়ার সমঝোতা সই করুক।’

এর কারণ হিসেবে বিএলডিএ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সরকার জমি অধিগ্রহণ করে বিঘাপ্রতি এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকায়। অন্য দিকে, আমাদের মতো কোম্পানিগুলোকে জমি কিনতে হয় বিঘাপ্রতি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি টাকায়। এর ফলে ঢাকার আশেপাশে সরকারি জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে নানা অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। কিন্তু কোনো দেশি কোম্পানি জমি কিনতে গেলে কৃষকের স্বার্থ রক্ষা হয়, এতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় না।’

আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ‘সরকার বিদেশি কোম্পানিকে জমি দিলে সরকারি ও বেসরকারি জমির মূল্যের যে ব্যবধান হবে তাতেই একটি অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে। এক্ষেত্রে কৃষককে বঞ্চিত না করে সুষম প্রতিযোগিতার জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) বিকল্প নেই।’

‘আমি মনে করি, দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হোক, তা কোনো সরকারই চাইবে না। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার আমাদের বারবার বলেছে, তারা আমাদের জমি দেবে এবং আমরা ডেভেলপ করব।’

ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী গ্রুপ সাহারার কর্ণধার সুব্রত রায় সাহারা ঢাকাকে কংক্রিটের জঙ্গল বানানোর যে অভিযোগ করেছেন সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় নগরায়নের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জমি। সুষ্ঠু নগরায়নের জন্য পরিকল্পনা মাফিক জমি পাওয়া যায়নি অথবা আরবান প্ল্যান না থাকায় এটা হয়েছে। ভারতে জমি সহজেই পাওয়া যায়, সরকার আমাদের সেভাবে জমি দিলে আমরা তাদের চেয়ে অনেক ভালো নগর গড়তে পারব।’

রাজউক সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রাজউক নামের যে প্রতিষ্ঠান আছে, তা নগরায়নের কথা বলে কিন্তু তারা নিজেরাই তা মানে না। তারা যে জমিকে জলাভূমি বলে, সেই জমিই তারা আবার ভরাট করে। বিষয়টি সাংবাদিকদের খেয়াল রাখা দরকার।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট নসরুল হামিদ বিপু। তিনি বলেন, ‘আমরা সামগ্রিকভাবে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে কথা বলতে চাই, কিন্তু কোনো বিশেষ কোম্পানিকে নিয়ে নয়। আমি সরকারকে অনেকবার বলেছি, আমাদের জমি দিতে হবে। আজ আবারও বলছি।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আবাসন খাতের একটি খারাপ সময় যাচ্ছে। এ শিল্পে ইতিমধ্যেই ৭০ ভাগ বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সরকার সহযোগিতা না করলে টিকে থাকা মুশকিল হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের যুগ্ম-সম্পাদক মেজর (অব.) জামশেদ হাসান পিএসসি, আরশি হায়দার, রিহ্যাবের ল্যান্ড স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মো. আকতার বিশ্বাস, এম আনিসুজ্জামান ভূঁইয়া রানা, বিল্ডিং টেকিনোলজি অ্যান্ড আইডিয়াজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এফ আর খান প্রমুখ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন